দুরন্ত

,

‘হাওয়া’ নিয়ে কেন এতো মাতামাতি?

“গতানুগতিক রোমান্টিক গল্প কিংবা একঘেয়েমি পরিচিত একশ্যান ধর্মী চলচ্চিত্র”

হাতেগোনা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র বাদ দিলে বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে হয়তো এক বাক্যে এভাবেই বর্ণনা করা সম্ভব। তবে আসন্ন ২৯ জুলাই মুক্তি পেতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’। ভাবছেন সিনেমা না দেখেই কিভাবে ব্যতিক্রম বলছি?

মুক্তির আগেই বলছি কারণ এই সিনেমার গল্প, ট্রেলার, মার্কেটিং পলিসি এখন পর্যন্ত প্রত্যেকটা বিষয় আমার কাছে ইউনিক লেগেছে। যার কারণেই হয়তো সিনেমা মুক্তির আগেই ১৫ টি শো হাউসফুল! বাংলা চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনাও নতুনই বটে৷

‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রের ‘সাদা সাদা কালা কালা’ শিরোনামের এই গানটিই আমার মনে হয় যথেষ্ট ছিল প্রতিটি মানুষের কানে ‘হাওয়া’র কথা পৌছে দিতে। তবে সিনেমাটির মার্কেটিং টিম এতেই ক্ষ্রান্ত থাকেন নি, রিকশার পিছনে ‘হাওয়া’, টি শার্টে ‘হাওয়া’, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়েও ‘হাওয়া’র বার্তা দিয়েছেন। যা শুধু আমাদের সত্তর দশকের চলচ্চিত্রের প্রচারণার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় না, নব্য বাংলা চলচ্চিত্রের সুদিনের বার্তাও দিচ্ছে বটে।

‘হাওয়া’ ট্রেলার ও ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানের বদৌলতে আমরা ইতিমধ্যেই আচঁ করে ফেলেছি মাঝ সমুদ্রের জেলেদের পারস্পরিক টানাপোড়েন, আআনন্দ-উল্লাসের গল্প ‘হাওয়া’। তবে কয়েক ঘন্টার এই গল্প তুলে আনতে পুরো টিমকে নিতে হয়েছে ৪৫ দিন মাঝ সমুদ্রে থাকার চ্যালেঞ্জ। এদিকে এক সাক্ষাৎকারে চান মিয়া চরিত্রে অভিনয় করা চঞ্চল চৌধুরী জানিয়েছেন এই চরিত্রের প্রয়োজনে একদিনে তাকে ‘১৫-২০’ টি পান খেতে হয়েছে। যা কন্টিনিউ করতে হয়েছে দিনের পর দিন। মুখের এই দাগ উঠাতে পরবর্তীতে নাকি বালি দিয়ে দাঁত মেজেছেন চঞ্চল চৌধুরী এক বছর৷

শুধু চঞ্চল চৌধুরী নয়, এই চলচ্চিত্রের অন্যতম চরিত্র ‘উরকেস’। এটি ফুটিয়ে তুলেছেন ‘তাকদীর’ সিরিজে ‘ভাইসা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা সোহেল মন্ডল। চরিত্রগুলোর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, “‘হাওয়া’র ‘উরকেস’ চরিত্রটা করা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল অবশ্যই। সিনেমার শুটে যাবার আগে দুই থেকে তিনমাস আমাদের তৈরি হতে হয়েছে। অনেকে সাঁতার জানতেন না, তাদের সাঁতার শিখতে হয়েছে। আবার যারা সাঁতার জানতেন যেহেতু গভীর সমুদ্রে নামতে হবে, তাই তারাও দীর্ঘদিন প্র্যাক্টিস করেছেন সাথে সাথে অভিনয়ের রিহার্সেলও করেছেন। এছাড়া ভাষাগত জায়গা থেকেও আমাদের মানিয়ে নিতে হয়েছে। হাওয়ার সবগুলো পারফর্মারই আসলে অসম্ভব পরিশ্রম করেছেন। ”

পত্রিকার পাতা খুললে যেখানে গতানুগতিক চলচ্চিত্রের অভিনয় শিল্পীদের সাক্ষাৎকারে ‘একদম নতুন ও ব্যতিক্রমধর্মী কাহিনী’র নামে অতিরঞ্জিত সব বর্ণনা শুনে বুকভরা আশা নিয়ে সিনেমাহলের সিট দখল করি এবং সিনেমা শেষে যারপরনাই হতাশ হয়ে ফিরি, সেখানে হাওয়া চলচ্চিত্রের অভিনয় শিল্পীদের কাজের প্রতি এই ডেডিকেশন সত্যিই প্রশংসনীয় ও আগ্রহ জাগানিয়া।

জানা গেছে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে নিয়মিত ভোর চারটায় উঠে শুটিং শুরু করেছেন ‘হাওয়া’ কান্ডারী মেজবাউর রহমান সুমন। আর দলের প্রত্যকে দিয়েছেন যোগ্য সাথ। নিজেদের এই আত্মত্যাগ ও সঁপে দেয়ার পুরষ্কার ইতোমধ্যে পেতেও শুরু করেছেন ‘হাওয়া টিম’ মানুষের উচ্ছ্বসিত ভালোবাসায়। ‘হাওয়া’ বয়ে চলবে নিজ গতিতে, বাংলা চলচ্চিত্রের এই নতুন স্বাদ দেয়ার জন্য সিনেমাপ্রেমী হিসেবে ধন্যবাদ জানাই হাওয়া টিমকে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

Related Articles

ভাইরাল নিউজ
স্পনসর
বিনোদন
টেকনোলজি
স্বাস্থ্য
স্পনসর