দুরন্ত

আত্মীয়ের সাথে বিয়েতে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন

ক্লিনিক্যাল জেনেটিক্স অনুসারে, Consanguineous Marriage এর মানে হলো, দুইজন সেকেন্ড ডিগ্রি রিলেটিভের বা তারও নিকটস্থ আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ হওয়া, যাদের ইনব্রিডিং কো-এফিসিয়েন্ট (F) ০.০১৫৬ এর সমান বা তার বেশি। এখানে F হলো, লোকি এর অনুপাতের একক, যেখানে সন্তানরা তাদের কোনো বৈশিষ্ট্য বাবা-মা উভয়ের থেকেই পাবে।

একটা সহজ ব্যাপারে আসা যাক, আপনার দাদি থেকে আসা একটা সুনির্দিষ্ট জিন আপনার ও আপনার সকল কাজিনের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া বহন করছে, কিন্তু আপনার থ্যালাসেমিয়া প্রকট না, আবার আপনার কাজিনদের মধ্যেও প্রকট না। কিন্তু যখন এই সুনির্দিষ্ট জিন, তারই অনুরূপ আরও একটি থ্যালাসেমিয়া বাহক জিন পেয়ে যায় তখন এটা প্রকট আকার ধারণ করবে। অর্থাৎ যখন আপনি আপনার কাজিনকে বিয়ে করছেন, তখন আপনি আপনার সন্তানদের মধ্যে এই প্রকট থ্যালাসেমিয়ার আশংকা সাধারণের তুলনায় বহুগুণে বাড়িয়ে দিলেন।এটা শুধুই একটা উদাহরণ মাত্র।এইভাবেই বংশগত রোগ খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পেতে পারে।

নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ের কারণে জন্ম নেয়া শিশু আক্রান্ত হচ্ছে সিস্টিক ফাইব্রোসিস নামে বিরল রোগে। এছাড়াও অটোসোমাল রিসেসিভ জাতীয় রোগ যেমন,থ্যালাসেমিয়া, উইলসন ডিজিজ, বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি, মানসিক বৃদ্ধি বিকাশ ব্যাহত হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা গেছে।যুক্তরাজ্যের ব্র‍্যাডফোর্ড শহরে এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের কারণে সন্তানের জিনগত অস্বাভাবিকতার হার সাধারণ শিশুদের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিকটাত্মীয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে মানা করা হয় কারন,সাধারণের তুলনায় নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে প্রজনন ক্ষমতা বেশি হলেও গর্ভপাত বা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকিও বেশি থাকে।বিটা থ্যালাসেমিয়া, সিকেল সেল ডিজিজ সহ বিভিন্ন ধরনের জিনগত রোগ, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু কিংবা শারীরিক ত্রুটিযুক্ত শিশু জন্মের ঝুঁকি সাধারণের থেকে বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।যুক্তরাষ্ট্র সহ মোট তিনটি দেশে এই ধরনের বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও অবশ্যম্ভাবী কোনো ফল দেখা যায় না, তবুও ঝুঁকি যেহেতু আছেই, তাই এড়িয়ে চলাই ভালো। আর একটা জিনিস, কিছু বিজ্ঞানীরাও কিন্তু কাজিনদের বিয়ে করেছিলেন। আর তাঁর উজ্জ্বল উদাহরণ আলবার্ট আইনস্টাইন ও চার্লস ডারউইন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

Related Articles

ভাইরাল নিউজ
স্পনসর
বিনোদন
টেকনোলজি
স্বাস্থ্য
স্পনসর